যখন খুব ছোট ছিলাম, বাবা যখন শিকারে যেতেন, তাঁর পেছনে পেছনে ঘুরতাম বন্দুকের খালি কার্তুজের আশায়। সদ্য ফোটা কার্তুজের খোসার মধ্যে লেগে থাকা বারুদের গন্ধ আমাকে পাগল করে তুলত। শীতকালে আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে সরালী আসত। বাবা প্রায়ই নৌকা নিয়ে সরালী শিকারে বেরিয়ে পড়তেন।...
আরো পড়ুন
যখন খুব ছোট ছিলাম, বাবা যখন শিকারে যেতেন, তাঁর পেছনে পেছনে ঘুরতাম বন্দুকের খালি কার্তুজের আশায়। সদ্য ফোটা কার্তুজের খোসার মধ্যে লেগে থাকা বারুদের গন্ধ আমাকে পাগল করে তুলত। শীতকালে আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে সরালী আসত। বাবা প্রায়ই নৌকা নিয়ে সরালী শিকারে বেরিয়ে পড়তেন। আমি চুপ করে তাঁর পাশে বসে থাকতাম। নৌকার মাঝি বাবার নির্দেশমত নৌকা চালাতে থাকত। সরালীর ঝাঁক দেখার সঙ্গে সঙ্গে বাবা নৌকার মাঝিকে বলতেন, নৌকার গতি কমিয়ে দিতে। বাবা বন্দুকে গুলি ভরে সরালীর ঝাঁকের দিকে বন্দুক তাক করে রাখতেন আর সেই সঙ্গে মাঝি খুব ধীর গতিতে নৌকা সরালীর ঝাঁকের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেত। সরালীর ঝাঁক বন্দুকের রেঞ্জের মধ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাবা গুলি করতেন। বাবা খুব দক্ষ শিকারি ছিলেন। একটি গুলি করার পর পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে তিনি বন্দুকে গুলি ভরে আরেকটি গুলি করতে পারতেন। সরালীর ঝাঁকে একটি গুলি করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি উড়ন্ত-প্রায় ঝাঁকে আরেকটি গুলি করতেন। এরপর দেখা যেত অনেক সরালী পানিতে চিত হয়ে পড়ে আছে আর আহত কিছু সরালী ডুবসাঁতার দিয়ে বিভিন্ন দিকে চলে যাচ্ছে। আমি এবং নৌকার মাঝি দুজনে মিলে মৃত পাখিগুলোকে নৌকায় তুলে রাখতাম। সব কয়টি মৃত পাখি নৌকায় তোলা হলে আমরা আহত পাখিগুলোকে ধরার চেষ্টা করতাম। যেসব সরালীর পাখায় গুলি লেগে যায় তারা আর উড়তে পারে না। কিন্তু ডুবসাঁতারে তারা খুব দক্ষ। তাই আহত সরালীগুলো ধরা ছিল খুবই কষ্টকর কাজ। অনেক সময় সবগুলো আহত পাখিকে ধরা যেত না, ফলে অনেক আহত সরালীকে নদীতে ফেলে রেখেই বাড়িতে চলে আসতে হতো।
কম দেখান