ক্রাতিলাস (ইংরেজিতে ক্রাটিলাস; গ্রিকে ক্রাতিলস)। এই সংলাপটির মূল আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ভাষার উৎপত্তি, যা প্লেটোর আমলে নতুনভাবে এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছিল। সংলাপটিতে বিভিন্ন নামের উৎপত্তি সম্পর্কে সক্রেটিসের অনুমান ও কল্পনা নিয়ে আমরা বিশদ আলোচনার সন্ধান পাই। তার সাথে ভাষার উৎপত্তি নিয়ে দুই বিপরীতধর্মী তত্তে¡র সন্ধান পাই সক্রেটিসবন্ধু হারমোজিনিজ এবং...
আরো পড়ুন
ক্রাতিলাস (ইংরেজিতে ক্রাটিলাস; গ্রিকে ক্রাতিলস)। এই সংলাপটির মূল আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ভাষার উৎপত্তি, যা প্লেটোর আমলে নতুনভাবে এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছিল। সংলাপটিতে বিভিন্ন নামের উৎপত্তি সম্পর্কে সক্রেটিসের অনুমান ও কল্পনা নিয়ে আমরা বিশদ আলোচনার সন্ধান পাই। তার সাথে ভাষার উৎপত্তি নিয়ে দুই বিপরীতধর্মী তত্তে¡র সন্ধান পাই সক্রেটিসবন্ধু হারমোজিনিজ এবং ক্রাতিলাসের বক্তব্য হতে। হারমোজিনিজের অবস্থান হলো, নাম ও পদের সঠিকতা নির্ধারিত হয় প্রচলনের মাধ্যমে–একটি সমাজের প্রথাগতভাবে যে নাম ও পদ গ্রহণ করা হয় তা-ই সঠিক হিসেবে আবির্ভূত হয়। অপরপক্ষে, ক্রাতিলাসের অবস্থান হচ্ছে, যাকে বলা চলে, ‘প্রকৃতিবাদী’ অবস্থান। প্রকৃতিগত একটি জিনিস যা সম্পন্ন করে তা-ই হয়ে ওঠে তার নাম; সেক্ষেত্রে প্রথা বা প্রচলিত ধারণা যা-ই হোক না কেন তা ধর্তব্য হয় না। সক্রেটিস পরিশেষে অভিমত রাখেন যে, শব্দের ব্যুৎপত্তিশাস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে বিবেচিত হওয়ার নয়, কারণ তারা উদ্ভবের পর্যায়ে বাস্তবতার প্রত্যয় নির্দেশ করে, যা ভ্রান্তও হতে পারে। ‘সত্য শেখার জন্য আমাদেরকে পুরোপুরিভাবে শব্দের পেছনে চলে যেতে হবে, আমাদের আত্মাকে পরীক্ষা করতে হবে, জিনিসপত্র খোদ যেমন, তাদের স্থায়ী অপরিবর্তনীয় রূপ তথা, আদল, তাকে সরাসরি আয়ত্ত করতে হবে।’ ভাষার উৎপত্তি বর্ণনা করার ছলে প্লেটো বাস্তবতার অপরিবর্তনতা, চিরস্থায়িত্ব এবং তাঁর ভাববাদী দর্শনকে তুলে ধরেন এই সংলাপটিতে।
কম দেখান