শতবর্ষপূর্তি সংস্করণ : ডিসেম্বর ২০২৫
উনিশ ও বিশ শতকে বাঙালি মুসলমানের আগরণে সভা-সমিতির একটি বিশেষ ভূমিকা ছিল। সংস্কার ও রক্ষণশীলতা, অশিক্ষা ও গোঁড়ামির বলয় থেকে বেরিয়ে আসার জন্যে বাঙালি মুসলমানকে দিশা দিয়েছিল এই সামাজিক-সাংস্কৃতিক-ধর্মীয় সংগঠনগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯২৬-এর একেবারে গোড়ার দিকে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মুসলিম সাহিত্য সমাজ। 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ,...
আরো পড়ুন
শতবর্ষপূর্তি সংস্করণ : ডিসেম্বর ২০২৫
উনিশ ও বিশ শতকে বাঙালি মুসলমানের আগরণে সভা-সমিতির একটি বিশেষ ভূমিকা ছিল। সংস্কার ও রক্ষণশীলতা, অশিক্ষা ও গোঁড়ামির বলয় থেকে বেরিয়ে আসার জন্যে বাঙালি মুসলমানকে দিশা দিয়েছিল এই সামাজিক-সাংস্কৃতিক-ধর্মীয় সংগঠনগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯২৬-এর একেবারে গোড়ার দিকে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মুসলিম সাহিত্য সমাজ। 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বৃদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব' এই বীজমন্ত্র নিয়ে 'সাহিত্য সমাজে'র যাত্রা হয়েছিল শুরু। বারো বছর আয়ুকালের এই সংগঠনটির বার্ষিক মুখপত্রের নাম ছিল শিখা। সংগঠনের নামের আগে 'মুসলিম' শব্দটি থাকলেও এখানে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ছিল না- হিন্দু-মুসলমান উভয়েই এখানে স্বচ্ছন্দে অংশ নিয়েছেন। উদার মুক্তচিন্তার সঙ্গে সম্প্রদায়-সম্প্রীতির একটি আবহও গড়ে উঠেছিল সংগঠনের কর্মকাণ্ডে।
এই 'মুসলিম সাহিত্য সমাজে'র সভার বিবরণ একটি বাঁধানো খাতায় লিখে রাখা হতো। 'সাহিত্য সমাজে'র সাধারণ ও ব্যর্ষিক অধিবেশনের কার্যবিবরণী এই সংগঠনের কর্মকারের মূল্যবান ও প্রামাণ্য উপকরণ। 'সাহিত্য সমাজে'র এই কার্যবিবরণী মূলত সংগঠনের নির্বাচিত বা ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকই গুছিয়ে লিখে রাখতেন। যতদিন সমিতির কার্যক্রম চলেছিল, সেই বারো বছরের সভার বিবরণী-খাতা একসময় কাজী আবদুল ওদুদের কাছ থেকে তাঁর জামাতা, ওই 'সমাজে'রই একজন সক্রিয় সদস্য, শামসুল হুদার হাতে আসে। দীর্ঘকাল অযত্নে পড়ে-থাকায় পোকাকাটা বিবরণীর জীর্ণ খাতাটি বাঁধাইয়ের সুতো খুলে গিয়ে অবিন্যস্ত হয়ে পাড়ে- পৃষ্ঠাও যায়ে ওঠে বিবর্ণ ও নরম। হয়তো আর কিছুকাল পরে এই মূল্যবান উপকরণটির কোনো অগ্নিত্বই বজায় থাকতো না। সেই বিবেচনায় ড. আবুল আহসান চৌধুরীর উদযোগে এই খাতাটির প্রতিলিপি-সংস্করণ (Facsimile Edition) পাঠক সমাবেশের সৌজন্যে প্রকাশিত হলো। শিক্ষিত বাঙালি মুসলমাদের চেতনায় নাড়া দেওয়ার মতো একটি প্রতিষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য দলিল প্রকাশের প্রয়োজন ও গুরুত্ব সুধীজন অনুধাবন করলে তা হবে এই কাজের যথাযথ স্বীকৃতি।
কম দেখান