তাদেরই একজন, কবি জীবনানন্দ দাশ, কালক্রমে বিংশ শতাব্দীর আধুনিক বাংলা কবিতার প্রতিভূ হয়ে ওঠেন-তাঁর কবিতাবলিতে বাংলা কবিতায় আধুনিকতার আবশ্যকীয় চারিত্র্য এবং বৈশিষ্ট্যাবলি অনপনেয়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
কবি হিসেবে জীবনানন্দ দাশ আপাদমস্তক দার্শনিক হলেও সচেতন ছিলেন যে, কাব্য একটি শিল্প। কবিতার প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে তিনি সম্যক অবহিত ছিলেন। এ-ও আশ্চর্যজনক যে, জীবনানন্দ...
আরো পড়ুন
তাদেরই একজন, কবি জীবনানন্দ দাশ, কালক্রমে বিংশ শতাব্দীর আধুনিক বাংলা কবিতার প্রতিভূ হয়ে ওঠেন-তাঁর কবিতাবলিতে বাংলা কবিতায় আধুনিকতার আবশ্যকীয় চারিত্র্য এবং বৈশিষ্ট্যাবলি অনপনেয়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
কবি হিসেবে জীবনানন্দ দাশ আপাদমস্তক দার্শনিক হলেও সচেতন ছিলেন যে, কাব্য একটি শিল্প। কবিতার প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে তিনি সম্যক অবহিত ছিলেন। এ-ও আশ্চর্যজনক যে, জীবনানন্দ দাশ কবিতার সংজ্ঞা নিরূপণের পরিবর্তে প্রশ্ন তুলেছিলেন-কবি কে? তার অবিস্মরণীয় উচ্চারণ : সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি। অর্থাৎ কবিতা রচনার মাহাত্ম্যেই কেউ ‘কবি’ হয়ে যান না। তার মতে কবিতা সত্য ও বাস্তবকে ধারণ করবে এমন নতুনভাবে যেন পাঠক আকাশে নতুন জ্যোতিষ্ক অবলোকনের আনন্দ লাভ করে।
কবি জীবনানন্দ দাশের কাব্যভাবনা ও কাব্যজগতের চৌহদ্দি এবং বিশ্ববীক্ষার একটি সামগ্রিক প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা সমস্যাসংকুল কেননা তার অধিকাংশ কবিতা হয় অপ্রকাশিত অথবা অপঠিত রয়ে গেছে। কিন্তু সেই চেষ্টাই নিরলস করে চলেছেন জীবনানন্দ-গবেষক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। জীবনানন্দ দাশের সনেট, দীর্ঘ কবিতা, প্রবন্ধ নিয়ে তিনি ‘জীবনানন্দ দাশ : জীবন ও কীর্তি’ বইয়ে নানান দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করেছেন। বইটিতে তিনি যেমন তুলে এনেছেন জীবনানন্দ দাশের চোখে রবীন্দ্রনাথকে, তেমনি সজনীকান্তের চোখে জীবনানন্দ কেমন ছিলেন তা-ও প্রমাণসহ পাঠকের সামনে নিয়ে এসেছেন। জীবনানন্দ দাশের চিঠিপত্র ও দিনপঞ্জি বইটিকে একপ্রকার সম্পূর্ণতা দান করেছে। লেখক সফল হয়েছেন জীবনানন্দ দাশের জীবন ও কীর্তিকে সুন্দরভাবে পাঠকের সামনে নিয়ে আসতে।
কম দেখান