গোরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস। গোরা নিঃসন্দেহে খুব শক্তিশালী একটি উপন্যাস। উপন্যাসের পটভূমি, তৎকালীন কলকাতা, ব্রিটিশ আমল যখন বাংলাতে হিন্দু সমাজ এবং ব্রাহ্ম সমাজের মধ্যে বিরোধ ছিল তুমুল পর্যায়ে। পুরো উপন্যাসের মধ্যে রাজনীতি আর ধর্মের দার্শনিক বিতর্ক খুবই সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এটির বিষয়বস্তুকে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডির ভেতর ফেলা যায় না।...
আরো পড়ুন
গোরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস। গোরা নিঃসন্দেহে খুব শক্তিশালী একটি উপন্যাস। উপন্যাসের পটভূমি, তৎকালীন কলকাতা, ব্রিটিশ আমল যখন বাংলাতে হিন্দু সমাজ এবং ব্রাহ্ম সমাজের মধ্যে বিরোধ ছিল তুমুল পর্যায়ে। পুরো উপন্যাসের মধ্যে রাজনীতি আর ধর্মের দার্শনিক বিতর্ক খুবই সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এটির বিষয়বস্তুকে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডির ভেতর ফেলা যায় না। কেননা, এতে যেমন রাজনীতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক, নারীমুক্তি, দেশাত্মবোধ, হিন্দুসমাজ সংস্কার আন্দোলনের মতো ভারী বিষয়বস্তু রয়েছে। পাশাপাশি বন্ধুতার বন্ধন, মাতৃত্ব, প্রেম-ভালোবাসাও রয়েছে।
পুরো উপন্যাস এত সুন্দর কাব্যিক ভাষায় লেখা, এত সুন্দর করে সব কিছুর বর্ণনা দেওয়া যে না পড়েও ওঠা যায় না। গোরা উপন্যাসে অনেক অসাধারণ চরিত্রের সৃষ্টি করেছেন রবীন্দ্রনাথ। যেমন গৌরমোহন বা গোরা, বিনয়, পরেশবাবু, সুচরিতা, ললিতা, আনন্দময়ী প্রভৃতি।
গৌরমোহন বা গোরা উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলেও বিনয়কে ভালো না বেসে উপায় নেই। প্রথম থেকেই গোরাকে কিছুটা গোঁড়া হিসেবে দেখানো হয়। যদিও আমার উপরে সত্য নির্ভর করছে, উক্তি অনুসারে গোরাকে ঠিক গোঁড়াও বলা যায় না। সে নিজেকে হিন্দু বলে, ব্রাহ্মণ হিসেবে পরিচয় দিতে হিন্দুসমাজের সংস্কারগুলো অতি তীব্রভাবে মেনে চলে।
বিনয় গোরার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। কিছুটা তার প্রাণের মতো একমাত্র বন্ধুও বলা চলে। বিনয়ের মতো এত বিনয়ী মানুষ বোধহয় খুবই কম আছে পৃথিবীতে। বিনয়ের চরিত্রের মাধুর্য অসাধারণ। বিনয় ও গোরা উভয়ই তৎকালীন ব্রিটিশ আমলের উচ্চশিক্ষার অধিকারী। কিন্তু অন্যান্য বাঙালি উচ্চশিক্ষার অধিকারীদের মতো তারা ব্রিটিশদের অনুগত ছিল না বরঞ্চ তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ছিল তুমুল। এই উপন্যাসের আমার অন্যতম পছন্দের বিষয়গুলোর মাঝে গোরা এবং বিনয়ের বন্ধুতা অন্যতম। তাদের বন্ধুতা এখনকার দিনে বিরল। অনন্যসুলভ তাদের বন্ধুতার মেলবন্ধন।
কম দেখান