আমার লাদাখ যাত্রা: বাংলাদেশ সংস্করণের ভূমিকা
'আমার লাদাখ যাত্রা' রাহুল সাংকৃত্যায়নের সেরা একটি ভ্রমণ কাহিনি। বইটির শিরোনাম 'আমার লাদাখ যাত্রা' হলেও রাহুল তার এই বইতে শুধু লাদাখ ভ্রমণের বিবরণই দেননি। একই সঙ্গে তিনি শ্রীনগর, জম্মু-কাশ্মীর ভ্রমণের বিবরণও দিয়েছেন। বিবরণ দিয়েছেন তার যাত্রাপথের অন্যান্য স্থানেরও। এবং তিনি তার স্বভাবসুলভভঙ্গিতে শুধু ভ্রমণের অভিজ্ঞতা...
আরো পড়ুন
আমার লাদাখ যাত্রা: বাংলাদেশ সংস্করণের ভূমিকা
'আমার লাদাখ যাত্রা' রাহুল সাংকৃত্যায়নের সেরা একটি ভ্রমণ কাহিনি। বইটির শিরোনাম 'আমার লাদাখ যাত্রা' হলেও রাহুল তার এই বইতে শুধু লাদাখ ভ্রমণের বিবরণই দেননি। একই সঙ্গে তিনি শ্রীনগর, জম্মু-কাশ্মীর ভ্রমণের বিবরণও দিয়েছেন। বিবরণ দিয়েছেন তার যাত্রাপথের অন্যান্য স্থানেরও। এবং তিনি তার স্বভাবসুলভভঙ্গিতে শুধু ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি তার 'তিব্বতে সওয়া বছর'সহ অন্যান্য গ্রন্থের মতো এই গ্রন্থেও তিনি শ্রীনগর, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ইতিহাস-ভূগোলের চমৎকার একটি চিত্র এঁকেছেন। এখানে বলা দরকার যে, রহুল একবার নয়, একাধিক বার কাশ্মীর লাদাখ ভ্রমণ করেছেন। এবং তা একেবারে নিছক ভ্রমণের জন্য ভ্রমণ নয়, তিনি ভ্রমণ করেছেন প্রাচীণ বৌদ্ধ সাহিত্য, দর্শন ও বিচারশাস্ত্র সম্বন্ধীয় গ্রন্থের অনুসন্ধানে। এবং এ কাজে তিনি সফলও হন। শেষ দফার লাদাখ ভ্রমণে তিনি সংগ্রহ করে আনেন দু'মনেও বেশি প্রাচীন পুঁথিপত্র। যেমনটি তিনি পরবর্তী সময়ে করেছিলেন তিব্বত ভ্রমণের সময়। এক্ষেত্রে আর একটি কথা বলা দরকার যে, হিমালয় তাঁকে বার বার আকর্ষণ করেছে বিশেষভাবে। তিনি প্রথমবার হিমালয়ে এক সংক্ষিপ্ত সফর করে মাত্র ১৭ বছর বয়সে। এরপর দুর্গম, কষ্টসাধ্য পথ অতিক্রম করে বদ্রী, কেদার, যমুনানেত্রী, গঙ্গোত্রী ভ্রমণ করেন। তারপর হিমালয় পাড়ি দিয়ে তিব্বত, ভুটান সফর করেন। একবার নয়, একাধিক বার। পাহাড়, পর্বত, গিরিশৃঙ্গ আর বরফের রাজ্য অতিক্রম করা যে কি কষ্টসাধ্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আজকের যুগে হিমালয়ে যাবার কিছু কিছু পথ ঘাট হয়েছে, কিন্তু সেই যুগে রাহুলের যুগে এর কিছুই ছিলো না।
পাহাড়-পর্বতের পুরো পথ তাকে অতিক্রম করতে হয়েছে পাঁয়ে হেঁটে অবশ্য মাঝেমধ্যে ঘোড়া, গাধা ও খচ্চরের পিঠে চেপেও। ভাবতেও গা শিউরিয়ে উঠে। সমতল ভূমির রাহুল ছিলেন অত্যন্ত সাহসী, দৃঢ়চেতা পরিব্রাজক। তাই পাহাড়, পর্বত, নদ-নদী কোনো বাঁধাই তার অন্য বাধা হতে পারেনি।
কম দেখান